শেষ রাতে উঠা জগতের সমস্ত মনীষীদের অভ্যাস। এই বরকতময় সময় আল্লাহ্র সৃষ্টির মহিমা উপলিব্ধি করা যায়। নিজেকে নতুন করে তৈরি করা যায়। উপযুক্ত করা যায়। সফল হতে চাইলে প্রভাতে উঠার কোন বিকল্প নেই।
যে ঊষা, যে প্রভাত, যে ভোঁর অন্ধকার অবসান করে আলোর দীপ্তিতে দিগন্ত উদ্ভাসিত করে সেই প্রভাতের স্নিগ্ধ বাতাসে দাঁড়ায়ে আল্লাহ্র সৃষ্টির দিকে অপলক তাকায়ে তাঁর মহিমা উপলব্ধি করা এবং ঊষার মতো আমাদের জীবন থেকে সমস্ত অন্ধকার কালিমা দূর করার জন্য সেই মহানের কাছে প্রার্থনা করে কেন কাজে নেমে পড়ি না!!
-
দিন রাত্রের মধ্যে "রহমতের সময়" আমার সবচেয়ে প্রিয়।
রাত ৪.৩০ মিনিটে ব্যালকনিতে দাঁড়ায়ে ভিন্ন উপলব্ধিতে স্থানু।
মুয়াজ্জিনের আজান, রহমতের বৃষ্টি, মহান সৃষ্টিকর্তার দিন রাত্রের অনায়াস পরিবর্তন এবং
আলো আঁধারির ছমছমে দিগন্তে কল্পনায় এক অদৃশ্য সত্ত্বার বিরাজ ও আহ্বান।
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিস,
রাতের বরকতময় তৃতীয় অংশে আল্লাহ্ পৃথিবীর আকাশে এসে ঘোষণা করেনঃ
"যে আমাকে ডাকবে আমি তার ডাকে সাড়া দেব।
যে আমার নিকট কিছু প্রার্থনা করবে আমি তাকে তা দান করব।
যে আমার নিকট মাফ চাইবে আমি তাকে মাফ করে দেব।" (বুখারী, মুসলিম)
এমন নীরব নির্জন শান্ত সমাহিত সময় আর কখনো পাওয়া যায় না।
সুরা আলে ইমরানের ১৯০ নম্বর আয়াতের অর্থ বুঝতে হলে, মর্ম উপলব্ধি করতে হলে এই সময়ে উঠতে হবেঃ
اِنَّ فِیۡ خَلۡقِ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ وَ اخۡتِلَافِ الَّیۡلِ وَ النَّهَارِ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی الۡاَلۡبَابِ
অর্থাৎ, নিশ্চয়ই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টিতে এবং দিন ও রাতের পরিবর্তনে জ্ঞানবানদের জন্য স্পষ্ট নিদর্শনাবলী রয়েছে।
আলস্যে প্রহর গড়ায়ে অন্য প্রহরের গিয়ে পড়ে। আমরা নির্বিকার!
এটাই কি জীবন? পেট ভরে খাওয়া আর নাক ডেকে ঘুমানর জন্য আমাদের জন্ম?
সুরা তাকবীরের ১৭-১৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্ চমৎকার সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেনঃ
وَ الَّیۡلِ اِذَا عَسۡعَسَ
وَالصُّبْحِ إِذَا تَنَفَّسَ
অর্থাৎ,
শপথ রাতের যখন ওর আবির্ভাব হয়,
আর (শপথ) ঊষার যখন তা নিঃশ্বাস ফেলে অন্ধকারকে বের করে দেয়।
تَنَفَّسَ শব্দটা একটু চিন্তার দাবী করে। ঊষা যখন নিঃশ্বাস ফেলে অন্ধকারকে বিদূরিত করে অর্থাৎ ফুঁ দিয়ে অন্ধকারকে দূর করে দেয়।
যে ঊষা, যে প্রভাত, যে ভোঁর অন্ধকার অবসান করে আলোর দীপ্তিতে দিগন্ত উদ্ভাসিত করে সেই প্রভাতের স্নিগ্ধ বাতাসে দাঁড়ায়ে আল্লাহ্র সৃষ্টির দিকে অপলক তাকায়ে তাঁর মহিমা উপলব্ধি করা এবং ঊষার মতো আমাদের জীবন থেকে সমস্ত অন্ধকার কালিমা দূর করার জন্য সেই মহানের কাছে প্রার্থনা করে কেন কাজে নেমে পড়ি না!!
পৃথিবীর কোন সফলেরা এই বরকতময় সময়ে ঘুমে আচ্ছন্ন থাকেন না।
ঘুমায়ে থাকি আমরা, ঘুমায়ে স্বপ্ন দেখি অনেক সফল হওয়ার!!
"পরদেশী বঁধু,
ঘুম ভাঙ্গায়ো চুমি আঁখি,
যদি বা নিশীথ জেগে ঘুমাইয়া থাকি......' -কাজি নজরুল ইসলাম
কঠিন প্রতিযোগিতার এই নিঠুর দুনিয়ায় ঘুমন্ত আপনার আঁখি চুম্বন করে কেউ ঘুম ভাঙ্গাবে না।
Nazar E Zilani
CEO and Founder, Sharpener
04.30 AM
Lalmatia, Dhaka.