স্ত্রী হযরত সারা ও ভাগ্নে হযরত লতু (আঃ) কে সাথে নিয়ে মিশর গেলেন হযরতইব্রাহীম (আঃ)।

ফেরার সময় মিশর সম্রাট হযরত সারা (আঃ) কে একজন কিবতি দাসী উপহারদেন। নাম হাজেরা।

অনেক সময় ও চেষ্টার পরও সন্তান না হওয়ায় হযরত সারা (আঃ) হযরত হাজেরা (আঃ) কে শরিয়ত সম্মতভাবে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ‘এর হাতে ন্যস্ত করে ন।অনেক সাধনার সন্তান এল। হযরত ইসমাইল (আঃ)।

আল্লাহর আদেশে প্রাণাধিকপুত্রসহ স্ত্রীকে নির্বাসন দিয়ে আসেন মক্কায় (বাক্কা)।

ছেলে সাথে চলার মত কিশোর হলে আল্লাহ্ স্বপ্নে জানালেন ছেলেকে কুরবানি করতে।হযরত ইব্রাহীম (আঃ) রওয়ানা হলেন ছেলেকে কুরবানি করতে ।কুরবানি দিতে উদ্যত বাবার সাথে হযরত ইসমাইল (আঃ) এর কথোপকথনঃ

হযরত ইসমাইল (আঃ)ঃ “বাবা, আপনাকে আললাহ যে নির্দেশ দেয়েছেন তা সেরে ফেলনু।”

আগামী দিনের নবী ইসমাইল (আঃ) ‘এর কথায় অতুলনীয় বিনয় ও আত্মনিবেদনেরপরিচয় পাওয়া যায়।হযরত ইসমাইল (আঃ)ঃ “ইনশাল্লাহ আপনি আমাকে সবরকারিদের মধ্যে পাবেন।”

তিনি “ইনশাল্লাহ” বলে আল্লাহর আদেশের প্রতি নিজেকে সমর্পণ করলেন।“আমাকে সবরকারি পাবেন” না বলে “আমাকে সবরকারিদের মধ্যে পাবেন” বলেআরো অনেক সবরকারিদের প্রতি সন্মান জানালেন। নিজের ইগো বা আত্মম্ভরিতাপ্রকাশ করলে ন না। (তফসিরে রুহুল মা’আনি )

কুরবানির করার পূর্ব মহুূর্তে ইবলিস শয়তান তিনবার নানাভাবে বিপথগামী করতেচেষ্টা করলে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) শয়তানকে লক্ষ্য করে সাতটি কঙ্কর বা পাথর নিক্ষেপ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় হাজী সাহেবেরা হজে যেয়ে মিনায় তিনবারকঙ্কর নিক্ষেপ করেন।

কুরবানী করতে উদ্যত বাবাকে হযরত ইসমাইল (আঃ) বলেনঃ

১) আমাকে শক্ত করে বেঁধে নিন যাতে আমি ছটফট করতে না পারি।

২) আপনার পরিধেয় পোশাক সামলিয়ে নিন যাতে কাপড়ে রক্ত না লাগে। এতে আমার সওয়াব কম হতে পারে। আমার মা’ও রক্ত দেখে বিচলিত হতে পারেন।

৩) ছুরিটা ধার দিয়ে নিন যাতে সহজে আমার প্রাণ বের হয়। কারণ মৃত্যু বড় কঠিন জিনিস।

৪) আমার মা ‘এর কাছে যেয়ে আমার ছালাম জানাবেন।

৫) আমার জামা আপনি চাইলে আমার মা ‘এর কাছে নিয়ে যেতে পারেন যদি তিনি কিছুটা সান্তনা পান।

৬) আমাকে কাত করে শুইয়ে দিন যাতে কুরবানীর সময় আমার মুখ আপনার নজরে না পড়ে।

৭) তাছাড়া ছুরি দেখে আমি ঘাবড়েও যেতে পারি।

একমাত্র পুত্রের মুখে এমন কথা শুনে বাবা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর মনের অবস্থা কি হতে পারে তা বোঝানোর অবকাশ নেই।

ঘোষনা হলো, “হে ইবরাহীম, তুমি স্বপ্নকে সত্য পরিণত করে দেখিয়েছ।”-সুরা আস সাফফাত। হযরত ইব্রাহিম ছেলেকে ছেড়ে দিলেন।

“আমি খাঁটি বান্দাদেরকে এমনি প্রতিদান দিয়ে থাকি।” যখন কোনো মুমিন বান্দা আল্লাহর আদেশের সামনে নতশির হয়ে নিজেকে নিবেদন করে, নিজের আবেগ ও ইচছাকে কুরবানি দিতে উদ্যত হয় তখন আললাহ বান্দার পার্থিব কষ্ট দুর করে দেন এবং পরকালের জন্যও সওয়াব লিখে দেন।

“আমি যবেহ করার জন্য এক মহান জীব এর বিনিময়ে দিলাম।” গায়েবী আওয়াজ শুনে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) আকাশে তাকায়ে দেখলেন হযরত জিবরাইল (আঃ) একটা ভেড়া নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

“মহান” বলার উদ্দেশ্য, এটা ছিল জান্নাতি ভেড়া ও এই কুরবানি কবুল হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ ছিল না।

আললাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সমস্ত রকমের কুরবানী করার নেক ইচ্ছা পুরণ করার ও সমস্ত রকমের রিয়া থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক এনায়েত করুন। সমস্ত বাবা-পুত্রের মাঝে মধুর সম্পর্ক তৈরী করতে গায়েবী মদদ দিন।আমীন।

Categories: Uncategorized

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published.