দুনিয়াব্যাপি ‘এমবিএ’ ডিগ্রী ব্যবসা ও লিডারশীপ শিক্ষায় বিশেষ অবস্থা ধরে রেখেছিল অনেক দশক ধরে । কিন্তু সময়ের সাথে সাথে শত শত ‘এমবিএ’ ধারী বের হলেও আদর্শ লিডারের অভাব বেড়েই চলেছে। এক্সিকিউটিভ লেভেলে সফলতার জন্য অনেক যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রয়োজন হয়। বর্তমান জটিল ব্যবসা পরিচালনার জন্য ‘এমবিএ’ প্রয়োজনীয় সকল দক্ষতা সরবরাহ করতে পারে। পেশাজীবনে উপরের দিকে উঠলে দরকার হয় একটা ব্যবসা পরিচালনার যাবতীয় গুণাবলী ও দক্ষতার।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ‘এমবিএ’ ডিগ্রী অনেক থিওরি ও অংক সেখালেও লিডারশীপ স্কিল তৈরিতে তেমন কোন ভূমিকা পালন করছে না। শ্রেণীকক্ষে লিডারশীপ শেখা যায় না। এটা ঠিক যে কিছু ভালো লিডারশীপ প্রিন্সিপ্যাল আছে যা প্রতিটা লিডারের শেখা দরকার। কিন্তু লিডারশীপ এমন একটা বিষয় যা বাস্তবতায় হাতে কলমে অনুশীলন করে শিখতে হয়।

অন্তরদ্বন্দ্ব, কঠিন চাপের মুখে ঠাণ্ডা থাকা, চরম অ্যাম্বিগুয়াস পরিস্থিতিতে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, কাজের উৎকর্ষের জন্য প্রয়োজনীয় আপোষহীন চারিত্রিক গুণাবলী ইত্যাদি এগুলো আসে নিজের দক্ষতায় নিপুন হয়ে ওঠায়, এবং repeated fail-and-fix cycles-এ।

আপনি  যে লেভেলেই থাকেন না কেন কম্পিটেন্সের উন্নতির একটা লক্ষ্য থাকা দরকার। এটা আপনার কাঙ্ক্ষিত লিডারশীপ গোলে পৌঁছুতে সাহায্য করবে।

একটা ‘এমবিএ’ ডিগ্রী কর্মদক্ষতার ক্ষেত্র দিতে পারে যে ভিত্তির উপর দাড়ায়ে আপনি অসাধারণ লিডারশীপ ক্যাপাবিলিটি তৈরি করতে পারেন।

লিডারশীপ মৌলিক ভাবে মানুষ সম্পর্কিত। আমরা জানি আমাদের মানুষগুলোই হচ্ছে আমাদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। কথাটা কিন্তু সম্পূর্ণ ঠিক না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষই হচ্ছে একটা প্রতিষ্ঠানের “কম-ব্যবহৃত-সম্পদ” আন্ডারউটিলাইজড আসেট।

মানুষের থেকে তার সক্ষমতার সবটুকু পেতে হলে মানুষের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক থাকতে হবে এবং লিডারশীপের মতো কঠিন পরিশ্রমের কাজটা করার মানসিকতা থাকতে হবে। এর মধ্যে তাদের পছন্দের দায়িত্ব নিতে হবে, ভ্যালু তৈরিতে তাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, অনর্থক কাজগুলোকে ছেঁটে বিদায় করা, এবং ব্যাক্তি ও টীমের ক্রমাগত উন্নতির জন্য অবিরাম কাজ করে যাওয়া।

গ্রেট লিডারশীপের পথে অনেক মানসিক ও আত্মিক বাঁধা আছে এর মধ্যে অন্যদের কাছে পছন্দ ও গৃহীত হতে হবে এই মানসিকতা ছাড়তে হবে। এই প্রতিবন্ধকতা টীমের অনেক ভালো কাজকে স্থবির করে দেয়। এই জন্যে গ্রেট লিডারশীপের মন্ত্রে বলা হয়ঃ জনপ্রিয়তার আগে সন্মান। কারণ জনপ্রিয়তা পারফরমেন্সে প্রভাব ফেলে না, সন্মান ফেলে।

নিজের থেকে আপনার টীমের সহযোদ্ধারা তাদের উপযুক্ততার শিখরে উঠতে পারবে না। আপনার শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তাটা কোন এক দিনে তার সম্ভাবনার ৮০-৮৫% এর বেশী দিতে পারে না।

যতক্ষণ আপনি আপনার সহকর্মীকে তার পটেনশিয়ালকে চ্যালেঞ্জ না করবেন, ততক্ষণ তার ‘উন্নত অর্জন’ অধরাই রয়ে যাবে আলেয়া হয়ে। আপনি যে টীমকে লিড করছেন তাদেরকে যদি কোচিং না করেন, প্রয়োজনীয় সাহায্য, সহযোগিতা এবং উৎসাহ না দেন, তাদের সাথে কোয়ালিটি সময় না দেন তা হলে তাদের ওই স্কিলগুলো শুককীট হয়ে থাকবে, প্রজাপতি হয়ে উড়বে না।

আপনার দ্বিতীয় স্বভাব হবে…..(চলবে)

Categories: Career Growth

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published.