দরবেশের কাছে এক ‘অস্থির মারেফাতের পথের পথিক’ এলো সাধনার বাকি জীবন দরবেশের সাথে গুজরান করতে। আগন্তকের চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট সে সামান্যতেই রেগে যান, অস্থির হন, দুর্বাসার রুপ ধারণ করেন।  

দরবেশের পর্ণ কুটীরে একদিন সামান্যতেই অতিথির ধৈর্যচ্যুতি, উতলা হয়ে উঠলো।  দরবেশ এলাজের ব্যবস্থা করতে তাকে কিছুটা লবণ আনতে পাঠালেন। 

লবণ এলো।

দরবেশ অসুখী সাগরেদকে লবণটুকু এক গ্লাস পানিতে মেশাতে বল্লেন। লবণ পানিতে মেশানর পর দরবেশ বল্লেন, “এবার গ্লাসের পানি পান করো” ।  

কেমন স্বাদ জিজ্ঞেস করায় থুঃ থুঃ ফেলতে ফেলতে সাগরেদ শুধু বলতে পারল, “ওহ, যম তিতা!”

এবার দরবেশ সাগরেদকে ওই পরিমাণ লবণ নিয়ে এক লেক পাড়ে গেলেন। লবণটুকু লেকের পানিতে মেশাতে বল্লেন। সাগরেদ মুঠির লবণ হ্রদের পানিতে ছুঁড়ে ফেলল। লবণ নিজেকে বিসর্জন দিয়ে বিলীন হোল হ্রদের পানিতে। এ যেন ফানা-ফিল্লাহ থেকে বাকা-বিল্লায় পৌঁছে পরম নির্ভরতায় আত্মভোলা হওয়া।  পানীও লবণটুকুকে আপন করে নিয়ে আধার হোল। এখানেই ‘আধার’ আর ‘আধেয়’র খেলা।

দরবেশ বল্লেন, “এবার পান করো হ্রদের পানি। “

সাগরেদ পান করলো। এখন তার মুখ বিকৃত হোল না। অতৃপ্তি আর বিরক্তি প্রকাশ পেল না তার মুখে। 

দরবেশঃ কেমন লাগলো পানি?

সাগরেদঃ ফ্রেশ (ব্র্যান্ড না!)

দরবেশঃ লবণাক্ত পেলে পানি?

সাগরেদঃ না।

দরবেশ এবার সাগরেদকে নিয়ে বসে বল্লেন, “জীবনের ব্যাথা, দুঃখ, যন্ত্রণা, হাহাকার, হলাহল এই লবণটুকুর মতো। একটুও বেশী না। একটুকুও কম না। জীবনের দুঃখ-কষ্টের পরিমাণ একই থাকে সব সময়।

লবনাক্ততার বা দুঃখ-কষ্টের  তীব্রতা নির্ভর করে যে পাত্রে আমরা  দুঃখ-কষ্টকে রাখি তার উপর। সুতরাং তুমি যখন দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে যাও তখন দুঃখ কমানোর একমাত্র পথ হচ্ছে আধারকে আধেয়’র চেয়ে বড় করে ফেলো অর্থাৎ দুঃখের চেয়ে দুঃখ রাখার পাত্রকে অসীম করে ফেলো। অর্থাৎ তোমার মনের সীমানাকে আদিকচক্রাবাল ব্যাপ্ত করো। লবনের মতো দুঃখও পানসে হয়ে যাবে।

সুতরাং লবনের গ্লাস হয়ো না, লবনের হ্রদ হও। সল্ট লেক হও।

Categories: Uncategorized

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published.